শুক্রবার, ২৩ মার্চ, ২০১২

একজন ডাক্তার ও একটি কুকুর (উৎসর্গ প্রিয় আসিফ মাহিউদ্দিন)



আমাদের মহল্লায় প্রতিমা বাল দেবী নামে একজন ডাক্তার আছেন। নিঃসন্তান ডাক্তার।
সারা মহল্লার সবার রোগে শোকে উনি ছুটে যান। গরীব ধনী সবার জন্য উনার দরজা খোলা।
সরকারি হাসপাতালে সাহায্যের দরকার হলে উনি ফোন টোন দিয়ে সাহায্য করেন।
শুক্রবারে উনি বিশেষ ভাবে ফ্রিতে রোগী দেখেন। উনার কর্ম উনার খ্যাতি এনে দিছে।
উনি মহল্লায় তাই বিখ্যাত।

উনার একটা বিদেশী জাতের কুকুর আছে।নাম তার লবাক। দেশে জন্মিলেও তার বাবা মা বিদেশী। তো
সে কুকুরটারও বিখ্যাত হওয়ার খায়েশ হলো। সেতো আর এমনি এমনি বিখ্যাত হতে পারবেনা।
তাই রোগী দেখুক বা পথচারী দেখুক বা চোর দেখুক, শুরু করে চিৎকার। সে হয়তো
সতর্ক করতে চায়। অথবা বিখ্যাত ডাক্তারের কাছে আসা রোগীদের কাছে ঘেউ ঘেউ করে
নিজের পরিচয় দিতে চায়। তার বিখ্যাত হওয়ার সখ। তার চিৎকারের জন্য সেও খ্যাতি পায়।
মহল্লার লোকজন তারে চিনে। তারে দেখলে দূরত্ব বজায় রেখে চলে। সে মনে মনে গর্বিত হয়।

সত্য হচ্ছে রোগী কিংবা পথচারীর কাছে সে বিরক্তির এক জন্তু। কেউ কেউ লাথি মরতে চায়।
কিন্তু সবাই জানে সবাই বুঝে এরে লাথি মেরেও লাভ হবে না। কুকুরের কাজ কুকুর করবে।
বুঝে না বুঝে চিৎকার করবে। চিৎকার করে করে সে মানুষ হবে না। লাথি মারলেও সে মানুষ
হবে না, তার চিৎকার কিংবা মৎকারও বন্ধ হবে না। ডাক্তার তার কর্মে বিখ্যাত থাকবেন, আর
তাকে অবলম্বন করে খ্যাতি চাওয়া কুকুর তার চিৎকরের জন্য কুখ্যাত কুকুরই থাকবে। আর ডাক্তারকে
ছেড়ে দিলে পথে পথে লাথি খাওয়া নেড়ি কুকুর হয়ে যাবে। কারন তার নিজের বলতে তো কোন পরিচয় নাই।

আমি কিন্তু কুকুরটাকে ভালবাসি। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলেন আদি যুগ থেকে কুকুর মানুষের সাথে সাথেই আছে।
অবশ্য ধর্ম বলে শয়তানও শুরু থেকে মানুষের সাথে সাথে আছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন